আরেক দফায় বাড়ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি

করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশে চলমান লকডাউনের সময়সীমা বৃদ্ধি করায় আরেক দফায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, আগামী ২৯ মে পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি ঘোষণা করা থাকলেও চলমান লকডাউনের সময়সীমা ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ কারণে স্কুল-কলেজের ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের উপর মহলের সঙ্গে আলোচনা করে ঘোষণা দেয়া হবে।

জানা গেছে, যেহেতু আগামী জুন মাস থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, সেহেতু নতুন করে আরও এক সপ্তাহ বৃদ্ধির চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে যদি লকডাউন তুলে দেয়া হয় তাহলে স্কুল-কলেজ খোলার প্রস্তুতি শুরু করা হবে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হলেও চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস শেষ করতে বেশি গুরুত্ব দিয়ে সপ্তাহে ছয় দিন তাদের ক্লাস নেয়া হবে। অন্য স্তরের শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে একদিন ক্লাস নেয়া হলেও অনলাইন ও অফলাইনে চলবে নিয়মিত ক্লাস।

জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন রবিবার বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানো হবে। এ বিষয়ে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে ঘোষণা দেয়া হবে।

নতুন করে আরও কতদিন ছুটি বাড়ানো হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কতদিন ছুটি বাড়ানো হবে সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। আলাপ-আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে সবাইকে জানানো হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে গত ফেব্রুয়ারিতে করোনার সংক্রমণ কমে যাওয়ায় ঈদের পর ২৩ মে স্কুল-কলেজ এবং ২৪ মে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। তবে নতুন করে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে ছুটি বাড়িয়ে তা ২৯ মে পর্যন্ত করা হয়।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনার সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর ১৮ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়। সেই ছুটি বাড়তে বাড়তে এ পর্যন্ত এসেছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি ২৯ মে পর্যন্ত বহাল আছে। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনায় খোলার কথা। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় এই ছুটি পুরো জুন মাসজুড়েই থাকতে পারে বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

এমন পরিস্থিতিতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত বছরও এই দুটি পরীক্ষা নিতে পারেনি সরকার। ফলে ‘অটো পাস’ দেওয়া হয়েছিল। যা বেশ সমালোচনার সৃষ্টি করে। তবে, এবার কি হবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, সংক্রমণ পাঁচ শতাংশের নিচে নেমে এলে সীমিত পরিসরে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি শ্রেণি কার্যক্রম চালুর চিন্তা করা হচ্ছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক তপন কুমার সরকার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এবার অটো পাস দেওয়া হবে না। আমরা যে কোনো মূল্যে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেব। আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি আছে। সংক্রমণ কমলে ‘কাস্টমাইজড’ (বিশেষায়িত) সিলেবাসের ভিত্তিতে নির্ধারিত সংখ্যক ক্লাস নেওয়া হবে। এরপরই পরীক্ষা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, জেএসসি পরীক্ষার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিস্থিতি অনুকূলে না এলে হয়তো ষষ্ঠ-সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের যেভাবে পদোন্নতি দেওয়া হয়, সেই নীতি অনুসরণ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ মার্চ দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়, যা এখনও চলমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.